শিরোনাম :
যত লাখ কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন কাতারের, জানলে আপনার চোখ যাবে কপালে উঠে হুট করে উড়ে এলো মুস্তাফিজকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় শোকের ছায়াঃ মারা গেলেন ৩৬ বছর বয়সের পাক তারকা ক্রিকেটার টাইগার ভক্তদের জন্য বিশাল সুখবর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৬ দলের স্কোয়াডে যারা, দেখে নিন এক নজরে দারুন সুখবরঃ আমিরাতে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে, সাথে শরিফুলও অবিশ্বাস্যকরঃ টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য আকাশ ছোয়া প্রাইজমানি ঘোষণা, কোনো ম্যাচ না জিতলেও বাংলাদেশ পাবে যত লাখ এইমাত্র পাওয়াঃ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্লোয়ার ফাস্ট বোলার এক টাইগার পেসার অবাক গোটা ক্রিকেট বিশ্ব, অবিশ্বাস্য কারণে কেটে নেওয়া হলো ১০ পয়েন্ট ব্রেকিং নিউজঃ অবশেষে আইসিসির দেখানো নিয়ম মেনে নিল বিসিবি, টি-২০ স্কোয়াডে আসছে পরিবর্তন
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

“অন্যের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আদব”

রিপু / ৩০ বার
আপডেট : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

মানুষের ভুল হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। ভুল যেমন রয়েছে, তেমনি সংশোধনও রয়েছে। ইসলামে ভুল ধরিয়ে দেওয়ার সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। কেউ কেউ অন্যের ভুল দেখলে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে সংশোধন করে দেওয়ার পরিবর্তে ধমক ও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথাও বলে ফেলেন। খুব বড় কিংবা জঘন্য কোনো ভুল নিয়ে বলছি না, নিত্যনৈমিত্তিক সূচিত হওয়া ছোট ছোট ভুলের কথা।

ভুল সংশোধনে প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আচরণ ছিল অত্যন্ত হিকমাহ ও আন্তরিকতাপূর্ণ। একবার রাসুল (সা.) হজরত আনাস (রা.)-কে বললেন, ‘আনাস, তুমি কি এ কাজটা করতে পারবে?’ আনাস (রা.) বললেন, ‘না, আমি পারব না (আনাস (রা.) তখন ছিলেন ছোট)। এ কথা শুনে রাসুল (সা.) মুচকি হাসলেন এবং সেখান থেকে চলে গেলেন।’

হজরত আনাস (রা.) দীর্ঘ ১০ বছর রাসুল (সা.)-এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘ওই দিন রাসুল (সা.)-এর মুচকি হাসিই ছিল আমার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি। আমার জীবনে আর কোনো এমন ভুল দ্বিতীয়বার হয়নি।’ এ ছাড়াও যেকোনো ভুল হলে ‘তুমি এটা কেন করলে?’ এমনটিও তিনি বলতেন না। এমনকি রাসুল (সা.)-এর খেদমতে কাটানো দীর্ঘ ১০ বছরে রাসুল (সা.) আমার প্রতি একটি কটু বাক্যও ব্যবহার করেননি।

এক কুরাইশ সাহাবি (রা.) এসে রাসুল (সা.)-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.), আপনি আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন।’ তখন মজলিসে থাকা অন্য সাহাবিরা রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন। কিন্তু রাসুল (সা.) অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ হিকমার সঙ্গে যুবককে কাছে এনে বললেন- ‘হে আমার সাহাবি, শোনো, এমনটি তোমার মায়ের সঙ্গে হোক তা কি চাও?’ সে জবাবে বলল, ‘না’। অতঃপর রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার কন্যা বা বোনের সঙ্গে হোক এমনটি চাও?’ সে পুনরায় জবাবে বললেন, ‘না’ এবং অন্যরাও তা চাইবে না। অবশেষে যুবক সাহাবি নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।

অতঃপর রাসুল (সা.) যুবক সাহাবির হাত ধরে দোয়া করে বললেন, ‘আল্লাহ, যুবকের পাপকে ক্ষমা করে দিন, তার অন্তরকে পবিত্র করুন এবং তাকে সহিষ্ণু করুন (তার এমন কামনার বিরুদ্ধে)।’ ওই ঘটনার প্রতি ভালো করে লক্ষ করুন, যুবকটি স্বয়ং রাসুল (সা.)-এর কাছে জঘন্য একটি পাপকাজের (জিনা) অনুমতি চাওয়াতে রাসুল (সা.) রেগে যাননি এবং ধমকও দেননি, বরং অত্যন্ত আন্তরিকতায় কাছে টেনে হিকমার সঙ্গে বুঝিয়েছেন এবং তার ভুলকে সংশোধন করেছেন।

বর্তমান সময়ে দেখা যায়, পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দোকানের কর্মচারীর ভুলের দরুন মালিক অত্যন্ত কটুবাক্য ব্যবহার করে থাকে, ধমক দিয়ে থাকে এবং প্রহার করে বসে ইত্যাদি। এমনটা করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কাউকে সরাসরি আঘাত দিয়ে কথা বললে কিংবা ভুল সংশোধনের উদ্দেশ্যে বললেও মাঝে মাঝে তা হিতে বিপরীত ঘটে। তাই রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে ভুলকে সংশোধন করার চেষ্টাতে রয়েছে সাফল্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক বোঝার ও আমল করার তওফিক দান করুন।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229