শিরোনাম :
যত লাখ কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন কাতারের, জানলে আপনার চোখ যাবে কপালে উঠে হুট করে উড়ে এলো মুস্তাফিজকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় শোকের ছায়াঃ মারা গেলেন ৩৬ বছর বয়সের পাক তারকা ক্রিকেটার টাইগার ভক্তদের জন্য বিশাল সুখবর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৬ দলের স্কোয়াডে যারা, দেখে নিন এক নজরে দারুন সুখবরঃ আমিরাতে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে, সাথে শরিফুলও অবিশ্বাস্যকরঃ টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য আকাশ ছোয়া প্রাইজমানি ঘোষণা, কোনো ম্যাচ না জিতলেও বাংলাদেশ পাবে যত লাখ এইমাত্র পাওয়াঃ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্লোয়ার ফাস্ট বোলার এক টাইগার পেসার অবাক গোটা ক্রিকেট বিশ্ব, অবিশ্বাস্য কারণে কেটে নেওয়া হলো ১০ পয়েন্ট ব্রেকিং নিউজঃ অবশেষে আইসিসির দেখানো নিয়ম মেনে নিল বিসিবি, টি-২০ স্কোয়াডে আসছে পরিবর্তন
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

“অবিরাম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে ওষ্ঠাগত নাগরিক জীবন”

রিপু / ১৯ বার
আপডেট : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

দ্রব্যমূল্যের অবিরাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। ভয়াবহ সিন্ডিকেটের কবলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার এখন লাগামহীন। দৈনন্দিন কেনাকাটা ও প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুলানে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ।>

আগে যে টাকায় মানুষ অনায়াসেই বাজার সারতে পারতো, এখন তার দ্বিগুণ টাকায়ও পারছে না। মাছ-গোশত দূরে থাক, চাল কিনলে, শাক-সবজি ও ডাল কেনার পয়সা হাতে থাকছে না। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষ এক কেজির জায়গায় আধা কেজি, আধা কেজির জায়গায় আড়াই শ’ গ্রাম কিনে কোনো রকমে দিন গুজরান করছে। ফলে এক অসহনীয় ও অভাব-অনটনের মধ্যে পড়েছে বেশির ভাগ মানুষ।>

কোনো পণ্যের দামই স্থির থাকছে না; কেবল বেড়েই চলেছে। এই দাম নিয়ন্ত্রণ করে সহনীয় পর্যায়ে আনার কার্যকর সরকারি কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। নামকাওয়াস্তে পরিদর্শক টিম নামিয়ে কিছু জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে সরকারি দায়িত্ব। এতে ব্যবসায়ীরা রীতিমতো বেপরোয়া। তারা যথেচ্ছ দাম বাড়িয়ে লুটে নিচ্ছে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। কেবল ব্যবসায়ীদের ভেতরে নয়, অসাধু মনোবৃত্তির চর্চা সমাজের স্তরে-স্তরে ঢুকে পড়ার বাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে।>

বিশ্ববাজারের কথা বলে বাড়ানো হয়েছে ভোজ্যতেলের দাম। ফায়দা লুটেছে মজুতদার-মুনাফাখোররা। তারপর জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দাম বাড়ানো হয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্য বাড়িয়ে চলেছে। তবে যতটা বৃদ্ধির কথা, তার চেয়ে দেড়-দুইগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি যেসব পণ্যের দাম খুব একটা বাড়ার কথা নয়, সেগুলোও পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে। কাঁচা মরিচে আগুন, ডিমের হালি ৫০ টাকা, দাম বেড়েছে সব ধরনের সবজিরও। আরেক দফা দাম বেড়েছে দুধ, ডাল, চিনি, মসলা, সাবানসহ মুদিপণ্যের। সেখানেও ডলারের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত বিক্রেতাদের। এর সাথে শাক-সবজি, তেলাপিয়া-পাঙ্গাস জাতীয় কমদামের মাছের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। ১০০ থেকে ১৩০ টাকার আপেল-মাল্টা ফল এখন ২৫০ টাকা। অন্যদিকে ওষুধের দাম বেড়েছে। বেড়েছে সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই তো চলছেই।

করোনা মহামারীর অজুহাত এখনো বন্ধ হয়নি। দুষ্টু প্রকৃতির দোকানদারদের লাউ-কুমড়ার বাড়তি দাম নিয়ে ডলারের দাম বৃদ্ধি, শাকের দামের জন্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করা বা পুঁটি মাছের দামের জন্য আইএমএফকে দায়ী করার এই রোগ সমাজের নানা মহলকেই আক্রান্ত করে বসেছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধির ফলে দিনমজুর থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তাদের যেমন ক্রয় ক্ষমতা কমেছে, তেমনি খুচরা পর্যায়ের বিক্রিও অনেক কমেছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে টানাপড়েন চলার পাশাপাশি উৎপাদকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লাভ হচ্ছে কেবল মধ্যসত্ত্বভোগী ও লুটেরা ব্যবসায়ীদের। বরাবরই সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হলেও সরকারকে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। যে সুযোগে সিন্ডিকেট চক্র পণ্যমূল্যের দাম বাড়াচ্ছেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মৌলিক ও প্রধানতম উপকরণ হচ্ছে খাদ্যপণ্য। এই খাদ্যপণ্যের মূল্য যখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তখন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দেশের সাধারণ মানুষ এখন এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। খাদ্যনিরাপত্তা বলতে শুধু পর্যাপ্ত খাদ্য থাকাকেই বোঝায় না, খাদ্য যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, প্রয়োজনমতো কিনতে পারে- এ বিষয়টিও এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে। পর্যাপ্ত খাদ্য আছে, অথচ মানুষ কিনতে পারছে না, এ পরিস্থিতি অনেক সময় দুর্ভিক্ষাবস্থা সৃষ্টি করে। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন ঘটনা ঘটেছে।>

>
এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রধানত দায়ী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং সরকারের যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের যে ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা কিছুটা হলেও সরকার নিরসন করতে পারে, যদি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সিন্ডিকেট ও মধ্যসত্ত্বভোগী কারা, তা খুঁজে বের করা সরকারের পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়। এদের শনাক্ত করে যদি আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়, তাহলে পণ্যমূল্য অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব।>

হতাশার দিক হচ্ছে, সাধারণ মানুষ সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখছে না। তাদের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে, সরকার যেন তাদের দিকে কোনো খেয়াল বা তোয়াক্কাই করছে না। সরকারের উচিৎ সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ নিরসনে জনকল্যাণমুখী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। বিশেষত খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এসব মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের সমন্বয়ে যৌথ পদক্ষেপ নেয়া। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা হলেও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। তাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তির পথ খুঁজে পাবে।>

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229