শিরোনাম :
যত লাখ কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন কাতারের, জানলে আপনার চোখ যাবে কপালে উঠে হুট করে উড়ে এলো মুস্তাফিজকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় শোকের ছায়াঃ মারা গেলেন ৩৬ বছর বয়সের পাক তারকা ক্রিকেটার টাইগার ভক্তদের জন্য বিশাল সুখবর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৬ দলের স্কোয়াডে যারা, দেখে নিন এক নজরে দারুন সুখবরঃ আমিরাতে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে, সাথে শরিফুলও অবিশ্বাস্যকরঃ টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য আকাশ ছোয়া প্রাইজমানি ঘোষণা, কোনো ম্যাচ না জিতলেও বাংলাদেশ পাবে যত লাখ এইমাত্র পাওয়াঃ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্লোয়ার ফাস্ট বোলার এক টাইগার পেসার অবাক গোটা ক্রিকেট বিশ্ব, অবিশ্বাস্য কারণে কেটে নেওয়া হলো ১০ পয়েন্ট ব্রেকিং নিউজঃ অবশেষে আইসিসির দেখানো নিয়ম মেনে নিল বিসিবি, টি-২০ স্কোয়াডে আসছে পরিবর্তন
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

“উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা”

রিপু / ২৮ বার
আপডেট : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। একসময় বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের চাপে পিষ্ট ছিল বলে গণ্য করা হতো। ছোটোখাটো অভিঘাত এই অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ।

আইএমএফ-এর হিসেব অনুযায়ী পিপিপি’র ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৩০তম। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে। এইচ.বি.এস.সি’র প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে এগিয়ে থাকবে।

১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে সর্বস্তরের মানুষের। দেশের পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে হয়েছে প্রভূত উন্নয়ন। প্রমত্তা পদ্মা নদীর উপর সেতু দিয়ে গাড়িতে করে মানুষ দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে সহজেই। এর ফলে অর্থনীতির প্রসার ঘটছে দ্রুত। বৈদেশিক কোনো সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর যানজট নিরসনে দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পাতালরেল নির্মাণের সম্ভ্যাবতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-চন্দ্রা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার পর চন্দ্রা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব স্টেশন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম স্টেশন-রংপুর এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। নূতন রেলপথ নির্মাণ, নূতন কোচ ও ইঞ্জিন সংযুক্তি, ই-টিকেটিং এবং নূতন নূতন ট্রেন চালুর ফলে রেলপথ যোগাযোগে নব দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দেশের সকল জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা হচ্ছে। বিমান বহরে ৬টি নতুন ড্রিম লাইনার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা আরো বেড়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য রামপাল, মাতারবাড়ি, পায়রা ও মহেশখালিতে মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিশোর ও যুব সম্প্রদায়ের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম এবং অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে স্থাপিত সাড়ে আঠার হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আজ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে সুযোগ সুবিধা। খাদ্যশস্য, মাছ এবং মাংস উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা এসেছে। চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৪র্থ এবং মাছ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। সকলের জন্য সুশিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত প্রতি বছর ২ কোটি ৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি, উপ-বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ২০১০ সাল থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যেক লোককে যাদের নিজস্ব বাড়ীঘর নেই, তাদের বাসাবাড়ী দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন-কেউ গৃহহীন থাকবে না এবং ইতিমধ্যে ১১ লাখের অধিক পরিবারকে বাড়ী দেওয়া হয়েছে।

উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো দেশে স্থিতিশীলতা থাকা। প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্কের ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। বিশৃঙ্খলা চাই না। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। শান্তির জন্য, উন্নয়নের জন্য স্থিতিশীলতা চাই। গণতন্ত্রের নামে কথিত হরতাল, জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি, হাঙ্গামা, আন্দোলন মূলত দেশের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা নষ্ট করে। আন্দোলন করলে করতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, শান্তিপূর্ণভাবে। সব রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জ্বালাও-পোড়াও গণতন্ত্রের হাতিয়ার নয়। ইয়ামেন, আফগানিস্তান, লিবিয়া, সিরিয়া এসব দেশ এখন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চূড়ান্ত ফল ভোগ করছে। তাদের পুরো অর্থনীতি বলা চলে ভেঙে পড়েছে। মাথাপিছু আয় কমে গেছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বেড়েছে। লাখ লাখ মানুষ বেকারত্ব বরণ করেছে। শিল্প বাণিজ্য সব মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ২০১৭ সালে লিবিয়াতে দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরুর পর তাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৬০ ভাগ কমে গেছে।

২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ৭৮৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে কেবল আভ্যন্তরিণ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে। আফগানিস্তানের অবস্থাও হয়েছে তাই। অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ফলে লাখ লাখ আফগানি কর্মহারা হয়ে বেকারত্ব বরণ করেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসার মতো অতি জরুরি পরিষেবা ব্যবস্থা এক প্রকার ভেঙে পড়েছে। আফগানিস্তানে জিডিপির মোটামুটি ৪০ ভাগই বৈদেশিক সাহায্য। কিন্তু তালিবানদের ক্ষমতাগ্রহণের পর সব রকম বৈদেশিক সাহায্য-সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে দেশটির সাধারণ মানুষ স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ সময় অতিক্রম করছে। ইরাকের ক্ষেত্রেও আমরা একইরকম চিত্র দেখেছি। যুদ্ধ এবং আভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এক সময়ের বিপুল সম্ভাবনাময় ইরাকের অর্থনীতিকে একেবারে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা সেই অবস্থা কখনো কামনা করি না আমাদের দেশে। এ কারণেই আমরা সবার সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই। সবার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলতে চাই। যেকোনো মূল্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। তাহলে খুব সহজেই এক দেশের স্থিতিশীলতার সুফল পাবে পার্শ্ববর্তি দেশসমূহ।
সম্প্রতি আসামের মূখ্যমন্ত্রীও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সেই কথাই বলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আছে বলেই তার ছোঁয়া লেগেছে আসামেও। সম্প্রতি আমি আসামের মূখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করি। তখন মূখ্যমন্ত্রী বললেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তার কারণে আমরা নানাদিক থেকে লাভবান হয়েছি।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন, কোনো প্রকারের সন্ত্রাস তিনি সহ্য করবেন না মর্মে যে নীতি গ্রহণ করেছেন, তা আমাদের মুগ্ধ করেছে”। তার কারণে বাংলাদশ কখনোই সন্ত্রাসীদের আবাসস্থলে পরিণত হবে না। সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থানের কারণে। তার এই বক্তব্য ও নীতির কারণে আমরাও লাভবান হয়েছি। এখন বাংলাদেশের মতো আসাম, মেঘালয়েও আর তেমন কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা নাই। আঞ্চলিক সন্ত্রাসী কার্যক্রম একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সন্ত্রাসী তৎপরতা না থাকায় বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি এখন আসামের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, বিনিয়োগের জন্য আসছে। আগে যেখানে একটা দুইটা হাসপতাল ছিল, এখন সেখানে ১৭টা নতুন হাসপাতাল গড়ে উঠছে, তাও আবার প্রাইভেট সেক্টরে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে এখানে। এ জন্যে আমরা শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আগে বাংলাদেশ রুট ব্যবহার করে সন্ত্রাসীরা সেখানে হামলা করতো- এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে।

আসামের মূখ্যমন্ত্রী বলেছেন উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব দরকার। এই স্থিতিশীলতা যেন আমরা বজায় রাখতে পারি পুরো দক্ষিণ এশিয়াতে, ভারত, বাংলাদেশ সব জায়গায়, সেটা আমাদের একটি মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কারণ স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে না। স্থিতিশীলতা থাকলে শুধু একটি দেশের না, প্রতিবেশী রাষ্ট্রেরও উন্নয়ন হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে বলেই সাম্প্রতিক সময়ে বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ ভারতে সফর করছে, তাতে ভারতের পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ উন্নত হয়েছে বলেই ভারতের অনেক মানুষ বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। স্থিতিশীলতার কারণেই এগুলো সম্ভব হয়েছে। এ কারণেই স্থিতিশীলতাটা জরুরি।

বাংলাদেশ সব সময় স্থিতিশীলতার পক্ষে সোচ্চার ও সরব অবস্থানে রয়েছে। কারণ আমাদের এখানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার মতো দেশী বিদেশী নানা চক্র যেমন আছে, তেমনই আছে ১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা। রোহিঙ্গা হলো হতাশাগ্রস্ত স্টেটলেস জাতি। তারা যেকোনো সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে ফেলতে পারে। দেশের বাইরে থেকে তাদের ইন্ধন দেওয়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তিও তাতে জড়িত থাকতে পারে। এর আগে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি বাইরের শত্রুদের ইন্ধনে কী ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। শ্রীলংকায় এক প্রকার লঙ্কাকাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেছিল তামিলরা। বিভিন্ন বিদেশী শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে লিবারেশন টাইগার অব তালিম ইলমের সদস্যরা দেশব্যাপী ব্যাপক নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। দেশজুড়ে গুপ্ত হত্যা, জ্বালাও- পোড়াও, হামলা-হাঙ্গামা বাধানোই ছিল তাদের কাজ। দেশের অভ্যন্তরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তারা শ্রীলংকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে সে সময়। বর্তমানে যদিও তাদের কার্যক্রম অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু একেবারে নির্মুল হয়ে গেছে তা বলা যাবে না।

আমরা সব সময়ই সোচ্চার আছি তামিলদের মতো রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে কোনো পক্ষ যেন দেশের অভ্যন্তরে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে। আগামীর পৃথিবী হবে এশিয়ার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠি এশিয়া প্যাসিফিকের দিকে অধিকতর নজর দিচ্ছে। চীনের ‘‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’’ উদ্যোগ ছাড়াও মার্কিন সরকারের “East Quad, West Quad” এবং ১৪টি দেশের সমন্বয়ে Indo Pacific Economic Forum (IPEF) তৈরী হয়েছে। তাছাড়া ASEAN I Colombo Secerity Concave ও তৈরী হয়েছে। ইউরোপিয়ান-চাইনিজ-মার্কিনীরা বহুবিধ উদ্যোগ নিচ্ছে। চাইনিজরা “Global Development Initiative (GDI)” (এউও) চালু করেছে। এইসব বিভিন্ন তৎপরতায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। বাংলাদেশ ভৌগলিকভাবে এসবের টিপিং পয়েন্টে রয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে দেখা গেছে যে, বড় বড় শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। যার ফলে Global Supply Chain and Global Financial Transaction বাধাগ্রস্থ হয়। এসব থেকে মুক্ত থাকার জন্যে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা (Regional Peace and Stability) রক্ষা করা অতীব প্রয়োজন।

বাংলাদেশ কোনো আইজোলেটেড আইল্যান্ড নয়। অন্যদেশে যখন সাধারণ জনগণ নির্যাতিত হয়, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতবর্ষে, তখন এখানেও তার প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ ও ভারতে উভয় দেশেই কিছু উগ্রপন্থী লোক আছে যারা কখনো কখনো কোনো কোনো বিছিন্ন ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাফায়ে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করে। জনমনে আতঙ্ক ও বিশৃংখলা বা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় এদের থেকে সাবধান। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য যা যা করা দরকার, তা উভয় দেশের করা উচিত বৈকি। শেখ হাসিনা প্রমান করেছেন যে, তিনি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন, তিনি শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। সুতরাং তাঁকে কিংবা তাঁর আদর্শকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার তা আমাদের করতে হবে।

আমাদের ভুললে চলবে না যে ২০০১-২০০৬ বাংলাদেশে বোমাবাজি ও সন্ত্রসীর যে তৎপরতা আমরা অবলোকন করেছি, “বাংলা ভাই” এর উত্থান,“জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ” (জে.এম.জে.বি) “হরকোতুল জিহাদ ইসলামী বাংলাদেশ” (হোজি.বি) ইত্যাদির উত্থান আমরা কি ভুলতে পারি? ২০০১ সালের নির্বাচনের পর পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর যে নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ্য হয় তাকি ভুলা যায়? একই দিনে দেশের ৬৪ জেলার ৬৩টিতে ৪৯৫টি বোমাবাজি হয়। ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সিলেটের মাজারে গেলে তাঁর উপর বোমাবাজি হয়, যার ফলে তিনি আহত হন এবং দুজন মারা যান। জননন্দিত নেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টার, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী এ এ এম শামসুল কিবরিয়া, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনূসকে হত্যা, ফাহিমা-সাবরিনা-মাহিমার উপর অত্যাচার, এমন কি আদালতের এজলাসে বোমাবাজি এবং সর্বোপরি তৎকালীন মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা যখন সন্ত্রাস, দূর্নীতি ও বোমাবাজির বিরুদ্ধে জনসভার আয়োজন করেন, তখন ২০০৪ সালের ২১শে আগষ্টে সেই র‌্যালীতে গ্রেনেড হামলা ও বোমাবাজির ফলে ২৪ জন সহকর্মী মারা যান, ৩৭০ জন আহত হন। যাদের অনেকেই এখনো জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।

আমরা শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সেই সব অসহনীয় নির্মম ও দুঃস্বপ্নের দিন থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনো সময় সময় সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের উপর বাড়ীঘর ভাঁঙ্গার বিছিন্ন ঘটনা ঘটে। এগুলো যাতে আর কখনো না হয়, তার জন্য সরকার বদ্ধ পরিকর । তবে সরকারের হাতকে এবং বিশেষ করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন সকল শ্রেনী পেশার জনগণের সমর্থন ও সাহায্য। তাহলেই আমরা এসব কলঙ্ক দূর করে একটি শান্তিময় ও স্থিতিশীল দেশ গড়ে তুলতে পারবো।

তবে এটাও সত্য যে, বাংলাদেশের একার পক্ষে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব নয়। অন্যান্য দেশের সহযোগীতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ প্রয়োজন। এ কারণেই আমরা অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আঞ্চলিক দেশগুলোকে এক সাথে কাজ করতে হবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের স্বার্থেই। বাংলাদেশের উন্নয়নে গতি ধারা ও অভাবনীয় অর্জন গুলোকে ধরে রাখতে এবং টেকসই করতে বাংলাদেশসহ প্রতিটি দেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক শান্তির জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229