শিরোনাম :
অনেক কল্পনা জল্পনার পর টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মিরাজ শেষ হল সেই টি-টেন লীগের চূড়ান্ত নিলাম আকাশ ছোয়া মূল্যে দল পেলেন বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার অগ্নিঝরা তাণ্ডব দেখিয়ে নিজেদের প্রমান করার পরীক্ষার সিরিজে প্রত্যাশিত জয় টাইগারদের, দেখুন ম্যাচ বিস্তারিত বোলিং ঝড়ের তাণ্ডবে ১৫ ওভার শেষে দেখে নিন সর্বশেষ স্কোর এই দলের সঙ্গেই এমন অবস্থা টাইগারদের! ফের শেষ বলে ছক্কা সোহানের, দুর্দান্ত লড়াকু ভাবে খেলে আরব আমিরাতের সামনে পাহাড় সমান রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা অবাক কাণ্ডঃ এই কেমন আউট দিলেন আম্পায়ার উড়তে থাকা মিরাজকে, দেখুন সর্বশেষ স্কোর আজ নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে: আসিফ আবারও শুরুতেই হার বাংলাদেশের, দেখেনিন ফলাফল এইমাত্র শেষ হল বাংলাদেশ-আরব আমিরাত ম্যাচের টস, জেনে নিন ফলাফল
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

“ক্যাম্পাস নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা”

রিপু / ২৭ বার
আপডেট : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। কীর্তনখোলা নদীর কোল

ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বহু মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রায় এক যুগে এসে পড়লেও সীমাবদ্ধতার সীমা থেকে বের হতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। ক্লাসরুম ও আবাসন সংকট, সেশনজট, অপর্যাপ্ত জনবল, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি নানা সমস্যায় জর্জরিত। আর সৌন্দর্যবর্ধনের দিক থেকে যেন একেবারেই উদাসীন। তদুপরি নদী ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকেই মুগ্ধ করে। নিজস্ব যে সম্পদগুলো রয়েছে তার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি সম্ভব বলে মনে করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ বিষয় নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মতামত ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন- মাসুম মাহমুদ
নুসরাত জাহান সুনয়না রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ)

দক্ষিণবঙ্গের ‘বাতিঘর’খ্যাত আমাদের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অর্জন ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। সূচনালগ্নে ৪টি অনুষদ ও ৬টি বিভাগ নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয়। অনেক অনেক সফলতা অর্জনের মাঝে কিছু অপূর্ণতা রয়েছে আমাদের যা পূর্ণ করা অতীব জরুরি। প্রতিষ্ঠার এক যুগে পদার্পণ করে বর্তমানে ২৪টি বিভাগ নিয়ে এর যাত্রা চলমান। একাডেমিক কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূভাবে সম্পাদনের জন্য আমাদের আরও ক্লাসরুম দরকার। একাডেমিক ভবন বাড়ালে শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠুভাবে পাঠদান এবং শিক্ষা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজতর এবং নির্বিঘœ হবে। আমরা আশাবাদী যে, অতিদ্রুত পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়া সত্ত্বেও ক্লাস কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।

মিলনায়তনের অভাব

ভোগাচ্ছে খুব

আমিনুল ইসলাম আশিক

ব্যবস্থাপনা বিভাগ (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ)

বাংলাদেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র সর্বদাই হয়ে ওঠে সাং¯ৃ‹তিক ও সামাজিক সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমের আঁতুড়ঘর। সেই বাস্তবতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় এক যুগ পার করে ফেললেও খুব একটা ফলপ্রসূ প্রভাব আনতে পারেনি তাদের টিএসসির মাধ্যমে। এর জন্য অনেক বড় একটা কারণ, টিএসসিতে মিলনায়তন না থাকা। সেটি হতে পারত উন্মুক্ত মিলনায়তন কিংবা হতে পারত সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম করার মতো একটি কনফারেন্স রুম। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও একটি অডিটোরিয়াম নেই, যেখানে বড়সড় কোনো প্রোগ্রাম আয়োজন করা যায়। শুধু তাই নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ব্যবহার অনেকাংশেই বিধিনিষেধে বেষ্টিত, যাতে করে সহশিক্ষার উন্মুক্ত অঙ্গন অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টিএসসির পূর্বপাশের ভূমিটি আজও খালি পড়ে আছে, যেখানে চাইলেই একটি মানসম্মত মিলনায়তন তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজন প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং সর্বোপরি সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা।

সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজন জলাশয় সংস্কার

সুমাইয়া ইসলাম শিমু, বাংলা বিভাগ (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ)

স্রোতস্বিনী কীর্তনখোলা তীরবর্তী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অপেক্ষাকৃত নবীন হলেও এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে সবাইকে। বিভিন্ন সময়ে বহিরাগত অনেকের কাছেও শোনা যায় সৌন্দর্যের প্রশংসা। কিন্তু প্রশংসার দাবি রাখা সত্ত্বেও এখানে রয়েছে এখনো অনেক অপূর্ণতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু কিছু সম্পদ রয়েছে যা সংস্কারের অভাবে ঐশ্বর্যম-িত হয়নি। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টিপাত করা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে মেইন গেট থেকে ভিসি গেট পর্যন্ত বিস্তৃত একটি এবং পূর্বপাশে শেরেবাংলা হল ও বঙ্গবন্ধু হলের পার্শ্ববর্তী আরও একটি পুকুরের দিকে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও উৎকর্ষ সাধনে জলাশয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুটি জলাশয় সংস্কারের ব্যবস্থা করা হলে বৃদ্ধি পাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য এবং উপকৃত হওয়া যাবে অন্যান্য বিষয়ে। পুকুর থেকে আগাছা পরিষ্কার করে পুকুর পাড়ে বিভিন্ন ফুল-ফলসহ প্রয়োজনীয় গাছপালা লাগানো যেতে পারে। পুকুর পাড় বাঁধাই করা সম্ভব হলে সৃষ্টি হবে আরও বেশি মনোরম পরিবেশ যা বিমোহিত করবে সবাইকে। পুকুর পাড়ে একদিকে প্রকৃতি তার মায়াভরা বাতাস বয়ে দেবে আর অপরদিকে পাওয়া যাবে ফুলের সৌরভ, বিভিন্ন মোসুমি ফল, গাছে গাছে পাখিদের আনাগোনা ও কিচিরমিচির শব্দ। এ সবকিছু মিলে তৈরি হতে পারে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন জলাশয়ে মৎস্য চাষও সৌন্দর্য এবং আর্থিক লভ্যতার প্রতীক। বিভিন্ন সুবিধা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয় কাজগুলোর মধ্যে জলাশয় সংস্কার অন্যতম।

শহীদরা থাকুক আরও

উঁচুতে, হোক সুবাসিত

সিফাত খান

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ)

শহীদ মিনার আমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আনতে পারি নতুনত্বের ছোঁয়া। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নানান ফুলের গাছ, নানান প্রজাতির গাছ রোপণ করতে পারি। ফলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণটি হবে সবুজের সমারোহ। নানান রঙের প্রজাপতি, ফুলের অপূর্ব সুবাসে ছেয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিক। প্রতিদিন ঋতুভেদে নানান ফুল ঝরে পড়বে শহীদ মিনারে। আমরা পারি শহীদ মিনারটি সমতল ভূমি থেকে উঁচুতে নির্মাণ করতে। অন্তত সুদীর্ঘ ৭০টি সিঁড়ি অতিক্রম করে যেন উঠতে হয় শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারটি উঁচুতে স্থাপন করার ফলে আমাদের শ্রদ্ধার জায়গাটাও হবে আরও উঁচুতে, শহীদদের স্থানও হবে অনেক উচ্চতায়।

তালতলার সৌন্দর্যবর্ধন

ভিন্নমাত্রা যোগ করবে

সিফাত জামান মেঘলা

আইন বিভাগ (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ)

দক্ষিণবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কীর্তনখোলার পারে অবস্থিত। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের এমন আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই যেখান থেকে নদীর সৌন্দর্য, এত কাছ থেকে অবলোকন করা যায়। যে একবার এর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়েছেন তাকে বারবার আকৃষ্ট করছে। ৫১ একরের এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানার্জনের বাতিঘর, পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। প্রতিটি ঋতু এখানে ধরা দেয় আপন মহিমায়। বর্ষা কিংবা শরৎ। শরৎ আসে কাশফুল আর মেঘের অপরূপ ভেলা নিয়ে। জীবনানন্দের ভাষায়, ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি, তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর!’ আর এই সৌন্দর্যের বিমোহিত লীলাভূমিকে আরও সাজিয়ে তুলতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ভার্সিটির তালতলা চেনে না এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওখানে একটি ব্রিজ আছে যা লন্ডন ব্রিজ নামে পরিচিত। কিন্তু ওইদিকটাতে যাওয়ার কোনো ভালো পথ নেই, যা আছে তা লাতাপাতা আচ্ছাদিত এবং ওইদিকে যাওয়ার অনুপযোগী। এখান দিয়েই বয়ে গেছে ছোট্ট খাল। ববির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে চাইলেই এই খালকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা যায়। খালের একপাশ দিয়ে এক লেনের রাস্তা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বসার জায়গাও হবে, পাশাপাশি অবসর সময়ে বন্ধু-বান্ধব মিলে আড্ডা দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হবে।

চাই ইউনিক ভাস্কর্য

সোহেল রানা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা

বিভাগ (২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ)

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন শুধু শিল্প, সাহিত্য, উদ্ভাবন, আবিষ্কার ও গবেষণার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে একক ঐতিহ্য, গৌরব, নিজস্ব সং¯ৃ‹তি। ঐতিহ্য ও গৌরবের স্মারক হিসেবে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ইউনিক ভাস্কর্য। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘ আশা-আকাক্সক্ষার ফল হিসেবে ২০১১ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি কোনো ভাস্কর্য। ফলে অনেক কিছুর মাঝেও ক্যাম্পাসে হাঁটতে গেলে মনের মণিকোঠায় বারবার উঁকি দিয়ে ওঠে কী যেন নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ থাকলেও তা পরিপূর্ণ নয়। চাই একটি পূর্ণাঙ্গ স্থাপনা যা ক্যাম্পাসের যেমন শোভাবর্ধন করবে, তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্যের এবং গৌরবের ধারক-বাহক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229