বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০২:৪২ অপরাহ্ন

রাতারাতি সয়াবিন তেল উধাও কুমিল্লায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট / ১১ বার
আপডেট : বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২
রাতারাতি_সয়াবিন_তেল_উধাও_কুমিল্লায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট: কুমিল্লায় রাতারাতি সয়াবিন তেল উধাও।

প্রতিদিনই তেলের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে, এরই মধ্যে কুমিল্লায় রাতারাতি উধাও হয়ে গেছে সয়াবিন তেল। অনেক জায়গায় তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বলা হচ্ছে তেল নেই। একই অবস্থা বিরাজ করছে কুমিল্লা শহরে।

হঠাৎ করে শহরে সংকট দেখা দিয়েছে সয়াবিন তেলের। বেশিরভাগ দোকানদারই দোকানে তেল নেই বলছেন। বুধবার (২ মার্চ) সরেজমিন শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। শহরের খোকন স্টোরের মুদিদোকানি জালাল আজ দুপুরে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই কোনো কোম্পানি, ডিলার তেল সাপ্লাই দিচ্ছে না। পাইকাররা আমাদের মাল দিচ্ছে না আমরাও জনগণকে দিতে পারছি না।

’ কোম্পানি আপনাদের কী ধরনের আশ্বাস দিচ্ছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা (কোম্পানি) বলছে, মাল আসলে পাবেন।’

 ৫ কোটি ১৫ লাখ টন সয়াবিন রপ্তানির সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘দুই তিনদিন হলো ভালো কোম্পানির তেল আসছে না। যেগুলো আসছে খুবই সীমিত। আগে যেগুলো বাজারে খুব একটা বিক্রি হতো না এখন সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে।’

দাম জানতে চাইলে বলেন, কোনো কোনো জায়গায় খোলা সয়াবিন তেল লিটার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই বোতল তেল নেই।গত মাসের শুরু থেকে শুরু হওয়া তেল নিয়ে তেলবাজি যেন শেষ কামড় বসালো। মাস শেষ হতে না হতেই আবারও সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল ১ মার্চ থেকে এই দাম কার্যকর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত রবিবার ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সেই প্রেক্ষিতে আজ থেকে প্রতি লিটার সয়াবিনে বাড়লো ১২ টাকা! ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে। তাই দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ নেই।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে (বিটিসি) সমিতির সচিব মো. নুরুল ইসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আগামী ১ মার্চ থেকে খুচরা বাজারে গ্রাহকদের বোতলজাত সয়াবিন তেলের প্রতি লিটার কিনতে হবে ১৮০ টাকায়।

প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৩ টাকা, পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৮৭০ টাকা। পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি মাসের শুরুতে তেলের দাম প্রতি টন এক হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

 যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন আমদানি বাড়িয়েছে চীন

অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গত ২০ দিনে সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি টনে এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৭২৫ ডলারে পৌঁছেছে। দাম না বাড়ালে তাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে।

দেশে তেল আসে মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে। আগামী মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিন উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ। রফতানির পরিমাণ ২১৫ কোটি বুশেল বা ৫ কোটি ১৫ লাখ টনে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন তারা।

২০২২-২৩ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। এক বছরের ব্যবধানে রফতানি ১০ কোটি বুশেল বাড়বে বলে সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে দেশটি। মূলত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটির কৃষকরা আবাদ বাড়াবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

গ্রেইন অ্যান্ড অয়েল সিড আউটলুক শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিন উৎপাদন ৪৫০ কোটি বুশেল বা ১২ কোটি ২৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বাড়বে ১ শতাংশ। দেশটির ৮ কোটি ৮০ লাখ একর জমিতে তেলবীজটির আবাদ করা হবে। ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদনের পেছনে বেশি জমিতে আবাদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।

 মিল মালিকদের প্রস্তাব মতোই সয়াবিনে বাড়লো ৮ টাকা

প্রতিবেদনে আরো আরো বলা হয়, ২০২২-২৩ মৌসুমে একরপ্রতি উৎপাদন গত বছরের মতো প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। প্রতি একর জমিতে ৫১ দশমিক ৫ বুশেল উৎপাদন হতে পারে। গত বছর একরপ্রতি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৫১ দশমিক ৪ বুশেল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, খরা পরিস্থিতির কারণে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয় সয়াবিন উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চল থেকে আমদানিকারক দেশগুলো সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না। বিকল্প হিসেবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঝুঁকছে।

গত ২০-২১ অর্থবছরে দেশটির কৃষকদের বড় একটি অংশ অর্গানিক খাদ্যশস্য আবাদ করেছে। পণ্যবাজারের তথ্য সেবাদাতা ও অর্গানিক এবং নন-জিএমও কৃষিপণ্যের অনলাইন বিপণন প্রতিষ্ঠান মার্কারিস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে অর্গানিক সয়াবিনের আবাদ ও অর্গানিক খাদ্যশস্যের আবাদ বৃদ্ধির তথ্য জানিয়েছে।

মার্কারিস জানায়, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে ৯১ লাখ একর জমিতে অর্গানিক খাদ্যশস্য আবাদ হয়েছে। ঊর্ধ্বমুখী আবাদে জ্বালানি জুগিয়েছে সয়াবিন। ৪০ হাজার একর জমিতে তেলবীজটির আবাদ করা হয়। এক বছরে সয়াবিন উৎপাদন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। শুধু তাই নয়, মাথাপিছু আবাদ ও উৎপাদনও বেড়েছে লক্ষণীয় মাত্রায়।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। হিমেল/প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ