শিরোনাম :
অনেক কল্পনা জল্পনার পর টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মিরাজ শেষ হল সেই টি-টেন লীগের চূড়ান্ত নিলাম আকাশ ছোয়া মূল্যে দল পেলেন বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার অগ্নিঝরা তাণ্ডব দেখিয়ে নিজেদের প্রমান করার পরীক্ষার সিরিজে প্রত্যাশিত জয় টাইগারদের, দেখুন ম্যাচ বিস্তারিত বোলিং ঝড়ের তাণ্ডবে ১৫ ওভার শেষে দেখে নিন সর্বশেষ স্কোর এই দলের সঙ্গেই এমন অবস্থা টাইগারদের! ফের শেষ বলে ছক্কা সোহানের, দুর্দান্ত লড়াকু ভাবে খেলে আরব আমিরাতের সামনে পাহাড় সমান রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা অবাক কাণ্ডঃ এই কেমন আউট দিলেন আম্পায়ার উড়তে থাকা মিরাজকে, দেখুন সর্বশেষ স্কোর আজ নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে: আসিফ আবারও শুরুতেই হার বাংলাদেশের, দেখেনিন ফলাফল এইমাত্র শেষ হল বাংলাদেশ-আরব আমিরাত ম্যাচের টস, জেনে নিন ফলাফল
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন

“তৃণমূলের পর এবার ‘ঢাকা টেস্ট’ বিএনপির”

রিপু / ৩১ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি আবারও পূর্ণ শক্তি নিয়ে রাজপথে ফেরার চেষ্টা করছে। নিত্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে সারাদেশে নানা কর্মসূচি পালন করেছে তারা। হামলা-মামলা-গ্রেপ্তারের ভয় এড়িয়ে এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা শামিলও হচ্ছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে, তাদের এসব কর্মসূচি সফল। সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তৃণমূলের এই সাফল্য নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। রাজপথে নামা নেতাকর্মীদের এই সাফল্যকে ‘পুঁজি’ করে বিএনপি আগামী দিনে বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাওয়ার চিন্তা করছে।

বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার আগে রাজধানী ঢাকায় দলের শক্তি ও সামর্থ্যরে পরীক্ষা নিতে চায় বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে সমাবেশ করে আসছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। কিন্তু থানা বা ওয়ার্ড এলাকায় নেতাকর্মীদের ভূমিকায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হতাশ। চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার আগে এবার ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাদের পরীক্ষা দিতে হবে। এ জন্য ঢাকায় ১৬টি স্থানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। নেতাকর্মীরা এটাকে ঢাকা মহানগর বিএনপির জন্য অ্যাসিড টেস্ট হিসেবে দেখছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে, সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। ঢাকার অলিতেগলিতে মিছিল-মিটিং হবে। এবারের আন্দোলন হবে ভিন্ন কৌশলে। বয়স তো অনেক হয়েছে, আর বেশিদিন না বাঁচলেই কী! ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ দেশ তৈরি করে রেখে যেতে চাই।’

সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে জনবান্ধব ইস্যুতে মাঠে থাকার সিদ্ধান্তও নিয়েছে তারা। একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্র্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে এখন বৃহত্তর আন্দোলনে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে কয়েকটি দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে। কিন্তু বিগত দুটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে বিএনপি এবার নির্দলীয় সরকারের দাবিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২২ আগস্ট থেকে তারা সমাবেশ, মিছিল বা বিক্ষোভের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে তাদের রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে হবে- দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এমন নির্দেশনা ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ২০ জেলায় বিক্ষোভ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ ইফতেখার আলী বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এখন ক্ষমতাসীন দলের দাপট, মামলা কিংবা পুলিশি হয়রানির ভয় উপেক্ষা করেই মাঠে নামছেন। কর্মসূচি সফল করছেন। ভবিষ্যতেও কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সফল করবে তৃণমূল।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি গত শনিবার নয়াপল্টনের সমাবেশের মাধ্যমে ১৮ দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু করে। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সমাবেশ হবে। বিষয়টি অবহিত করে বিএনপির উভয় ইউনিটই ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশকে চিঠি দিয়েছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখা পর্যায়ক্রমে রাজধানীর ১৬টি পয়েন্টে সমাবেশ করবে। সমাবেশে দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।

দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ সেপ্টেম্বর সূত্রাপুর-গেন্ডারিয়া-ওয়ারী-কোতোয়ালি-বংশাল (জোন-৬), ১৮ সেপ্টেম্বর শ্যামপুর-কদমতলী (জোন-৮), ২০ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও-সবুজবাগ-মুগদা (জোন-২), ২২ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী-ডেমরা (জোন-৭), ২৪ সেপ্টেম্বর লালবাগ-চকবাজার-কামরাঙ্গীরচর (জোন-৫) ও ২৬ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি-কলাবাগান-হাজারীবাগ-নিউমার্কেটে (জোন-৪) সমাবেশ হবে। উত্তরেও বিএনপিকে আটটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম-তুরাগ-বিমানবন্দর-খিলক্ষেত (উত্তরা পশ্চিম জোন), ১৫ সেপ্টেম্বর পল্লবী-রূপনগর-ভাসানটেক (পল্লবী জোন), ১৯ সেপ্টেম্বর বাড্ডা-ভাটারা-রামপুরা (বাড্ডা জোন), ২১ সেপ্টেম্বর মিরপুর-শাহআলী-দারুসসালাম-কাফরুল (মিরপুর জোন), ২৩ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরেবাংলা নগর (মোহাম্মদপুর জোন), ২৫ সেপ্টেম্বর গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট (গুলশান জোন) ও ২৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও-তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল-হাতিরঝিলে (তেজগাঁও জোন) সমাবেশ হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, জনস্বার্থ নিয়ে মাঠে নামায় তারা সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। ঢাকার কর্মসূচিতেও একইভাবে সাড়া পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। দলীয় সূত্র জানায়, গত মাসে বিএনপির এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দেড় শতাধিক মামলা হয়েছে। অন্তত ৫২টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে এবং ১৮টি স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, সরকারবিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে নির্যাতনের চরম পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তবে গুম-খুন, মামলা-হামলা, নির্যাতন করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না, সরকারেরও শেষ রক্ষা হবে না। দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে, বিনা ভোটের আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন করছে বিএনপি। সেই আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর সেই আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

ঢাকার মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মজনু আমাদের সময়কে বলেন, নিত্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের চেয়ারপাসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সারাদেশে আমাদের কর্মসূচি ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। ঢাকাতে সমাবেশ চলছে। ইতোমধ্যে আমরা দুটি সমাবেশ করেছি। এসব সমাবেশ সফল। আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করছি। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই আন্দোলন করছি। সুতরাং আমরা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনেও সফল হব।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আমাদের সময়কে বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাদের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। অতীতের মতো তারা (সরকার) আমাদের বিরুদ্ধেও কাল্পনিক মামলা করছে। আপনারা জানেন, আমাদের তিন নেতাকে ইতোমধ্যেই হত্যা করা হয়েছে। দল ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু এত কিছুর পরও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকটি কর্মসূচি সফল করেছেন। ঢাকায় চলমান কর্মসূচিও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সফল করা হবে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229