শিরোনাম :
যত লাখ কোটি টাকা খরচ করে বিশ্বকাপ আয়োজন কাতারের, জানলে আপনার চোখ যাবে কপালে উঠে হুট করে উড়ে এলো মুস্তাফিজকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় শোকের ছায়াঃ মারা গেলেন ৩৬ বছর বয়সের পাক তারকা ক্রিকেটার টাইগার ভক্তদের জন্য বিশাল সুখবর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৬ দলের স্কোয়াডে যারা, দেখে নিন এক নজরে দারুন সুখবরঃ আমিরাতে সুযোগ না পাওয়া সৌম্য এবার ত্রিদেশীয় সিরিজে, সাথে শরিফুলও অবিশ্বাস্যকরঃ টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য আকাশ ছোয়া প্রাইজমানি ঘোষণা, কোনো ম্যাচ না জিতলেও বাংলাদেশ পাবে যত লাখ এইমাত্র পাওয়াঃ বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্লোয়ার ফাস্ট বোলার এক টাইগার পেসার অবাক গোটা ক্রিকেট বিশ্ব, অবিশ্বাস্য কারণে কেটে নেওয়া হলো ১০ পয়েন্ট ব্রেকিং নিউজঃ অবশেষে আইসিসির দেখানো নিয়ম মেনে নিল বিসিবি, টি-২০ স্কোয়াডে আসছে পরিবর্তন
শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

“ব্যবসা-বাণিজ্যে ইসলামের আদর্শ”

রিপু / ৩৩ বার
আপডেট : সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

ইসলাম সুমহান এক আদর্শের নাম। এতে রয়েছে মানুষের পার্থিব-অপার্থিব সব বিষয়ে পথনির্দেশনা। ব্যবসা-বাণিজ্যেও রয়েছে মহানবী (সা.)-এর জীবনের আদর্শ ও সুন্নত। সাহাবায়ে কেরামের বৃহৎ অংশ ব্যবসা করেছেন। ব্যবসা ও ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে তাঁরা দেশ-বিদেশ সফর করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ব্যবসার মধ্যে বরকত দেন। এর মাধ্যমে রিজিকের প্রশস্ততা দান করেন। সততা ও আমানতদারিতা ব্যবসার মূলধন। সত্যবাদী ব্যবসায়ী হাশরের ময়দানে নবী ও সিদ্দিকগণের সঙ্গে থাকবেন। হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দিক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবেন’ (তিরমিজি : ১২০৯)। হাদিসে সৎ ব্যবসায়ীর অনেক বড় মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে যারা ব্যবসায় অসদুপায় অবলম্বন করে, ধোঁকা ও প্রতারণা করে, ওজনে কম দেয়, মজুদদারি করে, মূল্যবৃদ্ধি করে- তাদের জন্য কুরআন-হাদিসে কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা ওজনে কম দেয় তাদের জন্য দুর্ভোগ। যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয় তখন পূর্ণমাত্রায় নেয়। আর যখন লোকদের মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়’ (সুরা মুতাফফিফীন : ১-৩)। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ক্রেতাকে ঠকায়। বিভিন্ন কৌশলে ভোক্তাকে প্রতারিত করে। প্রতারণার শিকার ভোক্তা কখনো এর প্রতিকার পায়, কখনো পায় না। এ জন্য ইসলাম আবশ্যিকভাবে ভোক্তাকে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধিকার দিয়েছে।

সিদ্ধান্ত বিবেচনার অধিকার
অনেক সময় তাড়াহুড়ার কারণে বা নিজে ভালোমন্দ পার্থক্য করতে না পারার কারণে ক্রেতা প্রতারিত হয়। কখনো বিক্রেতাও লোকসানের শিকার হয়। তাই ইসলামী শরিয়তে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কে বেচাকেনার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ দিয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রাথমিক আলোচনার পর তিন দিন পর্যন্ত বিবেচনা করার সুযোগ লাভ করবে। এই সময়ের মধ্যে তারা ভালোভাবে চিন্তা করে অন্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে হয়তো ক্রয়-বিক্রি চূড়ান্ত করবে, নতুবা বাতিল করবে। তবে এই সময়ে ক্রেতা পণ্যের মালিক হবে না। কিন্তু যদি তার হাতে পণ্য নষ্ট হয়ে যায়, তা হলে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আনসারি সাহাবি হজরত হিব্বান ইবনে মুনকিজ ইবনে আমর (রা.) বেচাকেনায় ঠকতেন। নবীজি (সা.) তাকে বললেন, ‘যখন তুমি বেচাকেনা করবে তখন বলবে, কোনো প্রতারণা চলবে না, আমার জন্য তিন দিনের অধিকার রয়েছে।’ (হেদায়া : ৪/২৯)

পণ্য দেখে নেওয়ার অধিকার
কখনো দূর থেকে অর্ডার করে পণ্য আনা হয়, পণ্য দেখার সুযোগ হয় না। বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক বেচাকেনার ক্ষেত্রেও পণ্য দেখার সুযোগ থাকে না।

এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ঠকার বা প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ইসলামী শরিয়ত অধিকার দিয়েছে, দেখার পরে যদি নির্ধারিত পণ্য ক্রেতার পছন্দ না হয় তা হলে সে ক্রয়-বিক্রি বাতিল করতে পারে। নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন বস্তু ক্রয় করে, যা সে দেখেনি তা হলে তার জন্য খেয়ার (পণ্য নেওয়া না নেওয়ার স্বাধীনতা) রয়েছে, পণ্য দেখার পরে। তবে বিক্রেতা যদি নিজ পণ্য না দেখেই বিক্রি করে তা হলে দেখার পর ক্রয়-বিক্রি বাতিল করার অধিকার তার থাকবে না। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান (রা.) একবার বসরার একটি জমি হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.)-এর কাছে বিক্রি করলেন। কিন্তু এই জমি হজরত উসমান (রা.) নিজেও দেখেননি। হজরত তালহাকে বলা হলো, তুমি তো ঠকে গেছো। তিনি বললেন, আমার অধিকার রয়েছে যেহেতু আমি সেই জমি দেখিনি। হজরত উসমানকে বলা হলো, আপনি তো ঠকেছেন।

তিনিও বললেন, ‘আমার অধিকার রয়েছে যেহেতু আমি জমি দেখিনি। পরে মীমাংসার জন্য উভয়ে হজরত জুবায়ের ইবনে মুতঈমকে সালিশ মানলেন। তিনি অনেক সাহাবির উপস্থিতিতে হজরত তালহার পক্ষে রায় ঘোষণা করলেন এবং হজরত উসমানের অধিকার বাতিল করে দিলেন’ (হেদায়া : ৪/৩৬)। এর দ্বারা বোঝা যায় বিক্রেতার জন্য পণ্য দেখার অধিকার নেই।

ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার
কখনো পণ্য দেখে কেনা সত্ত্বেও পরবর্তী সময়ে তাতে ত্রুটি ধরা পড়ে, এমন ত্রুটি- যার কারণে পণ্যের মূল্য কমে যায়, তা হলে ক্রেতা ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করে দিতে পারে। অথবা নির্ধারিত মূল্যে ত্রুটিসহ পণ্য গ্রহণ করতে পারে। তবে পণ্য গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মূল্য কমানোর সুযোগ নেই। অনেক ব্যবসায়ী অতিমুনাফার লোভে ভোক্তা বা ক্রেতার অধিকারের প্রতি ভ্রƒক্ষেপ করে না। ‘বিক্রীত পণ্য ফেরত নেওয়া হয় না’ বা ‘বিক্রীত পণ্য পরিবর্তন করা যাবে না’- এমন লেখা দোকানে ঝুলিয়ে রাখে। পরবর্তী সময়ে ত্রুটি পাওয়া গেলেও তারা গ্রাহক থেকে পণ্য ফেরত নেয় না। অথচ ইসলামের বিধান অনুযায়ী পণ্যে ত্রুটি পাওয়া গেলে ক্রেতার তিন দিন পর্যন্ত পণ্য ফেরতের স্বাধীনতা থাকার কথা। সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড ‘আল লাজনাতুত দায়িমা লিল ইফতা ওয়াল বুহুস’-এ উল্লেখ রয়েছে, ‘পণ্য ফেরত দেওয়া যাবে না, পরিবর্তন করা যাবে না- এরূপ শর্তে ক্রয়-বিক্রি করা জায়েজ নেই। কারণ এমন শর্তারোপ বৈধ নয়। তাতে ক্রেতার ক্ষতি ও পণ্যের দোষ গোপন করা হয়। তা ছাড়া এর উদ্দেশ্য হলো দোষযুক্ত পণ্যই ক্রেতার জন্য অনিবার্য করে দেওয়া’ (ফাতওয়া নং-১৩৭৮৮)।

ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রেতা ও ভোক্তার অধিকার বাস্তবায়ন করা জরুরি। বাস্তবায়নের অভাবে অনেক ভোক্তা ও ক্রেতা প্রতিনিয়ত ধোঁকা ও প্রতারণার শিকার হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে অনেকে। বিশেষ করে অনলাইন শপিংয়ে পণ্য দেখার সুযোগ থাকে না। ফলে কোম্পানির সরবরাহকৃত পণ্য পছন্দ না হলেও গ্রাহক তা নিতে বাধ্য হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের অধিকার সংরক্ষণে পণ্য পছন্দ না হলে ক্রয় বাতিল করার অধিকার দেওয়া উচিত। আল্লাহ সবাইকে সঠিক বিষয় বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।

 

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229