শিরোনাম :
অনেক কল্পনা জল্পনার পর টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মিরাজ শেষ হল সেই টি-টেন লীগের চূড়ান্ত নিলাম আকাশ ছোয়া মূল্যে দল পেলেন বাংলাদেশের পাঁচ ক্রিকেটার অগ্নিঝরা তাণ্ডব দেখিয়ে নিজেদের প্রমান করার পরীক্ষার সিরিজে প্রত্যাশিত জয় টাইগারদের, দেখুন ম্যাচ বিস্তারিত বোলিং ঝড়ের তাণ্ডবে ১৫ ওভার শেষে দেখে নিন সর্বশেষ স্কোর এই দলের সঙ্গেই এমন অবস্থা টাইগারদের! ফের শেষ বলে ছক্কা সোহানের, দুর্দান্ত লড়াকু ভাবে খেলে আরব আমিরাতের সামনে পাহাড় সমান রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা অবাক কাণ্ডঃ এই কেমন আউট দিলেন আম্পায়ার উড়তে থাকা মিরাজকে, দেখুন সর্বশেষ স্কোর আজ নিজেকে অনেক সুখী মনে হচ্ছে: আসিফ আবারও শুরুতেই হার বাংলাদেশের, দেখেনিন ফলাফল এইমাত্র শেষ হল বাংলাদেশ-আরব আমিরাত ম্যাচের টস, জেনে নিন ফলাফল
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন

“ব্যালট নাকি ইভিএম, দ্বিধাদ্বন্দ্বে ইসি”

রিপু / ২৬ বার
আপডেট : রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিদিনের পোস্ট ||

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে ত্রিমুখী সিদ্ধান্তে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কখনো ব্যালট, কখনো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), আবার কখনো ইভিএম-ব্যালটে আসন ভাগাভাগি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির বারবার এমন সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কারণে কমিশনের প্রতি দল ও ভোটারদের আস্থাহীনতা বাড়ছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।

গত ৮ মে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আগামী সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে দলের নেতাদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ সব দলই অংশ নেবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এরপর ফের আলোচনায় ইভিএম ইস্যু, যা কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তি ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। সর্বশেষ গত জুলাই মাসের ১৭ তারিখ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি রোডম্যাপ তৈরি নিয়ে সংলাপের আয়োজন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সংলাপে অংশ নিয়ে ইভিএম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরে ৩০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে ইভিএমে সমস্যা নেই বলে জানায় আওয়ামী লীগসহ চারটি দল। আটটি শর্তসাপেক্ষে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে রাজি হয় এবং বিপক্ষে সরাসরি মত দেয় ১৬টি দল। এ ছাড়া বিএনপিসহ ৯টি দল ইসির সংলাপ বর্জনের পাশাপাশি ইভিএমের বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

এরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ কমিশনের একাধিক সদস্য বলেন, ‘৩০০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সক্ষমতা ইসির নেই। তাদের হাতে থাকা মেশিন দিয়ে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০টি আসনে ভোট করা সম্ভব।’ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন সিইসি। কিন্তু সেই আলোচনা ছাড়াই গত ২৩ আগস্ট ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানায় ইসি। এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় সিইসি জানান, দলগুলোর মত তাদের কাছে মুখ্য ছিল না। যদিও গত ৩১ জুলাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেছিলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমে বিশ্বাস করছে না। এর ভেতরে কী জানি একটা আছে! আমরা অনেককেই আস্থায় আনতে পারছি না। ইভিএম বিষয়ে সঙ্কট থেকে যাবে।

এর আগে কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান বলেছিলেন, ইভিএমের ভোটে মূল চ্যালেঞ্জ গোপন কক্ষের ডাকাত। তবে আরেক কমিশনার আনিছুর রহমান বলেছিলেন, আমাদের ইভিএম মেশিনের মতো সেরা মেশিন পৃথিবীর কোথাও নেই। ইভিএমের কোনো ভুলত্রুটি কেউ ধরতে পারলে তাকে ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। পরে সিইসি ওই কমিশনারের বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেন।

দেড়শ আসনে ইভিএম ব্যবহারে ইসির সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে সব বিরোধিতা ও আলোচনা-সমালোচনা পাশ কাটিয়ে ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। ইতোমধ্যে ইভিএমের নতুন প্রকল্পের কাজও শুরু করেছে কমিশন।

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে গত মঙ্গলবার বিবৃতি দেন ৩৯ বিশিষ্ট নাগরিক। এ নিয়ে পরের দিন বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইসি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে রাজনৈতিক সঙ্কট প্রকট হবে না। সঙ্কট ইভিএম নিয়ে নয়, সেটা আরও মোটাদাগের সঙ্কট। রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে ফয়সালা হলে সব আসনে ভোট ব্যালটে হবে।’ এ সময় সিইসি আরও বলেন, ‘যন্ত্র দুর্বল কী সবল, এটা ইসির কাছে বিবেচ্য নয়। যন্ত্র কাজ করছে কি না, এটাই আসল বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘তারা দৃঢ়ভাবে বলতে চান, ইভিএমে জালিয়াতি সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন বিশ্লেষক ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার সময়ের আলোকে বলেন, ‘সিইসির বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। ইসির এই পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত আরেকটা রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি করেছে। ইভিএম প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল যন্ত্র ও জালিয়াতির যন্ত্র। ইসি, তাদের কর্মকর্তা, কারিগরি দল, প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ইভিএমে জালিয়াতি করতে পারেন। আর এ ইসির ওপর মানুষের আস্থা নেই। সঙ্কটটা সেখানেই। এখানে রাজনৈতিক সঙ্কট নেই।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার একেক সময় একেক বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি যে কিছু করতে পারছেন না, সেটা ফুটে উঠেছে। অবশ্য এর ভালো-খারাপ দিক আছে।’ সাবেক এই কমিশনার বলেন, ‘কমিশন সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে, না হয় আরেকটা সভা করে তা বাদ দিতে হবে। হতে পারে এটা ওনার ব্যক্তিগত মতামত। কমিশনের সিদ্ধান্ত নয়।’

এ প্রসঙ্গে বর্তমান নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘এটা সিইসির নিজস্ব বক্তব্য। কেন তিনি একেক বার একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন এ বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে ইভিএম নিয়ে কমিশন সভার সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে, ব্যালটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ   রিপু /প্রতিদিনের পোস্ট


এ জাতীয় আরো সংবাদ

Warning: Undefined variable $themeswala in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229

Warning: Trying to access array offset on value of type null in /home/khandakarit/pratidinerpost.com/wp-content/themes/newsdemoten/single.php on line 229