বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ন

ভুক্তভোগী সেই নারী চাকরির জন্য ঢাকায় আসছিলেন

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া / ৪৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া || ভুক্তভোগী সেই নারী চাকরির জন্য ঢাকায় আসছিলেন ।

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের যাত্রীদের হ’ত্যার ভয় দেখিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মা’রধর ও লু’টপাট করে ডা’কাত দল। এ সময় ডা’কাতির প্রতিবাদ করায় ধ’র্ষণের শিকার হন এক বাসযাত্রী। ওই নারীর বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়।

নির্যাতিতার বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে জোর করে আমার মেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। মেয়েকে ঢাকায় যেতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু আমার কথা শুনেনি। আমার মেয়ে জেদি, এক কথার মানুষ। মেয়ে বলেছিল, ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমি খাওয়া-দাওয়া করছিলাম। এ সময় মেয়ে সবার নিষেধ অমান্য করে ব্যাগপত্র নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। আজ শুনতে পেলাম আমার মেয়ে ধ’র্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে।

নি’র্যাতিতার চাচাতো বোন বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে একবার ফোনে কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। তখন সে পাবনার মধ্যে ছিল। তারপর আর কথা হয়নি। আজ শুনলাম নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ধ’র্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে সে।

তার মা বলেন, প্রায় ৫ বছর আগে ঈগল পরিবহন বাসের এক সুপারভাইজারের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। তবে মেয়ের স্বামীর সঙ্গে এখন আর যোগাযোগ নেই। মেয়ে ঢাকায় চাকরির জন্য যাচ্ছিল।

ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০ তরুণ বাসের প্রতিটি সিটের পাশে পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। তারা প্রত্যেক পুরুষ যাত্রীর গলায় ছুরি ধরে রাখে। তাদের মধ্যে তিন থেকে চারজন দ্রুত বাসের পর্দা কেটে পুরুষ যাত্রীদের মুখ, হাত ও পা বেঁ’ধে ফেলে। বাসের মাঝখানের লম্বা জায়গায় মাথা নিচু করে তাদের বসিয়ে রাখে। বাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জন নারী যাত্রীর মধ্যে একজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। বাকিদের চোখ, মুখ ও হাত খোলা ছিল। ওই একজন নারী যাত্রী আমার শাশুড়ি। বাস তখন স্বাভাবিক গতিতে চলতে থাকে। বাসের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। জানালার গ্লাসগুলো আটকে দেওয়া হয়।

হেকমত আলী বলেন, বাসের পেছনের দিক থেকে তিন সিট সামনে বসে ছিলাম আমি। আমার হাতও বাঁধা ছিল। আমার থেকে দুই হাত দূরে এক নারীকে তল্লাশি করার সময় ওই নারী প্রতিবাদ করেন। ওই নারী ডা’কাত দলকে বলেন, ‘তোরা যে কাজ করছিস, সেটা ঠিক নয়। আমার এলাকা পাবনায় হলে তোদের দেখে নিতাম। এ কথা শোনার পর দুই তরুণ ওই নারীকে মারধর করেন, শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। প্রতিবাদ করায় ডা’কাতরা ধ’র্ষণ করে ওই নারীকে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা প্রাগপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। বাসটি সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি দিবারাত্রি হোটেলে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য বিরতি দেয়। রাত দেড়টার দিকে আবার যাত্রা শুরু করে। পথে কাঁধে ব্যাগ বহনকারী ১০-১২ জন যাত্রী বাসে ওঠেন। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রী বেশে থাকা ডা’কাতরা অ’স্ত্রের মুখে বাসটির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মারধর, ডা’কা‌তি ও ধ’র্ষণ করে। এ ঘটনায় বাসের এক যাত্রী বাদী হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আ’সামি করে মা’মলা করেছেন।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভো‌র ৫টার দি‌কে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থে‌কে রাজা মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রে’প্তার ক‌রে‌ছে জেলা গো‌য়েন্দা পু‌লিশ (ডি‌বি)। রাজা কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। প্রাথ‌মিক জিজ্ঞাসাবা‌দে তিনি চলন্ত বা‌সে ডা’কা‌তি ও ধ’র্ষণের কথা স্বীকার ক‌রেছে।

এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ন বেআইনী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আশিকুল/প্রতিদিনের পোষ্ঠ


এ জাতীয় আরো সংবাদ