বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

স্কুল কলেজ খোলার খবরে করোনা ভাইরাসের জরুরি বৈঠক

মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন / ৯ বার
আপডেট : রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১
স্কুল_কলেজ_খোলার_খবরে_করোনা_ভাইরাসের_জরুরি_বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন: এ বছরের সেপ্টেম্বরের দশ তারিখ, হঠাৎ নোটিশ এলো আগামীকাল ১১ ই সেপ্টেম্বর করোনা ভাইরাসের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাই উক্ত বৈঠকে যোগ দিতে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট গুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডেল্টা এ জরুরি বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠক শুরু হলো যথাসময়ে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলল, আজ যে কারণে এই জরুরি সভা তা হলো- বাংলাদেশে আগামীকাল স্কুল কলেজ খুলেছে।

তারা ভয়ে স্কুল, কলেজ বন্ধ করে দিয়েছিল আমাদের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই। এবার তাই প্রচুর আক্রমণ করার সুযোগ।তোমরা স্কুল কলেজ গুলোতে ছড়িয়ে পড়বে ব্যাপকভাবে। কোন চেষ্টার ত্রুটি যেন কারও মধ্যে না দেখি। আমাদের মোক্ষম সুযোগ এটাই। আমরা এই দিনের অপেক্ষাতেই ছিলাম।

আমরা আবার ১৯ শে সেপ্টেম্বর বসব আমাদের কাজের অগ্রগতি কতটুকু হলো তার রিপোর্ট জানতে। তবে, মনে রেখো এই সুযোগ আমাদের হাত ছাড়া করা যাবে না- এই বলে ডেল্টা সবাইকে আরও বেশি বেশি আক্রমণ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করল।

কিছুদিন পর আরার যথারীতি সভা বসল ১৯ তারিখে। ভ্যারিয়েন্ট গুলো কান্নাকাটি শুরু করে দিল সভায় এসেই। ডেল্টা বলল, তোমরা কাঁদছো কেন?

উত্তরে সবাই বলল, আমরা প্রত্যেকটা স্কুল, কলেজে আক্রমণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা মুখে মাস্ক, হাতে স্যানিটাইজার, বার বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার কারণে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও সফল হতে পারিনি। আরেকজন ভ্যারিয়েন্ট বলে উঠল,তারা তিনফুটে দূরত্বে বেঞ্চ বসিয়ে প্রতি বেঞ্চে একজন করে বসিয়ে ক্লাস করায়।

এমনকি আমরা প্রাথমিক স্কুল গুলোতে গিয়েও কোমলমতি শিশুদের আক্রমণ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁরাও খুব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুলে আসছে। আর একটা ভ্যারিয়েন্ট বলে উঠল,বোধ হয় এই দেশে আমরা আর সুবিধা করতে পারব না।

অন্যান্য দেশে যেভাবে সহজে আক্রমণ করেছি, স্কুল কলেজ তারা পুনরায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
এখানে মনে হয় ওদের সাথে আমরা পারব না।শুনেছি, এরা বীরের জাতি।যে কোন দূর্যোগ এরা খুব সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে।

সভাপতি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বলল,আমাদের সর্বস্ব দিয়ে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।হাল ছাড়া যাবে না।নতুন নতুন অজানা ভ্যারিয়েন্টদের আক্রমণে আনতে হবে।সারা বিশ্বকে কাবু করে নাকানিচুবানি খাইয়েছি।আর এই পুঁচকে বাংলাদেশকে পারব না,তা হয় না।তোমরা তোমাদের দায়িত্ব নিয়ে আরও সুচারুভাবে চেষ্টা করো।

আমরা আবার ৬ ই অক্টোবর সভায় বসব।সেদিন যেন ফলাফল আমাদের অনূকূলে আসে।সবাই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাপিয়ে পড় স্কুল, কলেজগুলোতে। মনে রাখবে,বিশ্বকে যখন কাঁপিয়ে দিয়েছি,আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না,এদেশকে করোনার ঢেউ দিয়ে ডুবাবো।


এ জাতীয় আরো সংবাদ